বুধবার । ১লা জুলাই, ২০২৬ । ১৭ই আষাঢ়, ১৪৩৩

ভেনেজুয়েলায় ভয়াবহ ভূমিকম্পে ৫৯ হাজার ভবন ক্ষতিগ্রস্ত

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ভেনেজুয়েলায় আঘাত হানা জোড়া ভূমিকম্পের জেরে ক্ষতিগ্রস্ত ও ধ্বংস হওয়া ভবনগুলো থেকে আরও জীবিত মানুষকে খুঁজে পাওয়ার আশা ক্রমেই ক্ষীণ হয়ে আসছে। ধসে পড়া ভবনের নিচে আটকে পড়াদের উদ্ধারে টানা কঠোর অভিযানের পর মঙ্গলবার (২৯ জুন) উদ্ধারকর্মীরা হতাশার কথা জানান।

রয়টার্সের খবরে বলা হয়, ইকুয়েডর ও যুক্তরাষ্ট্রের উদ্ধারকারী দল মঙ্গলবার ভোরে লা গুয়াইরা অঙ্গরাজ্যের মাকুতো শহরে উদ্ধার অভিযান স্থগিত করে। ২৪ জুনের ভূমিকম্পে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত এ এলাকায় ৪০ ঘণ্টারও বেশি সময় ধরে কাজ করার পর একটি নয়তলা ভবনের ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকে থাকা এক মা ও তার তিন সন্তানের কাছ থেকে আর কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি।

জানা গেছে, দেশটিতে প্রায় ৫৯ হাজার ভবন ক্ষতিগ্রস্ত বা ধ্বংস হয়েছে। এসব ভবনের অধিকাংশই এখনও উদ্ধার অভিযান বাইরে। ফলে ধারণা করা হচ্ছে, ধ্বংসস্তূপে আটকে থাকা হাজার হাজার নিখোঁজ মানুষের অধিকাংশই আর বেঁচে নেই।

ইকুয়েডরের গুয়াইয়াকিলভিত্তিক ইকিউ-১১ দলের প্রধান মেজর হোর্হে মন্তানেরো বলেন, ‘শেষ পর্যন্ত আমরা মনে করছি, এখন আর জীবিত কাউকে পাওয়ার সময় নেই। এখন যা পাওয়া যাবে, তা হলো মরদেহ।’

লা গুয়াইরায় অস্থায়ীভাবে স্থাপন করা একটি মর্গে নিজের স্বজনদের জন্য অপেক্ষা করছিলেন আন্দ্রেয়া মন্তিয়া। রাজ্যের প্রধান বন্দর এলাকায় স্থাপিত ওই মর্গে তার স্বজনেরা তার চাচাতো ভাই এবং ওই কিশোরের দাদির মরদেহ শনাক্ত করতে গিয়েছিলেন।

আন্দ্রেয়া বলেন, ১৪ বছর বয়সী তার চাচাতো ভাইয়ের মরদেহ রাতে একটি অ্যাপার্টমেন্ট ভবনের ধ্বংসস্তূপ থেকে উদ্ধার করা হয় এবং পরিবারের সদস্যরা সেটি সরাসরি বন্দরে নিয়ে আসেন।

ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি
মার্কিন মহাকাশ গবেষণা সংস্থার হিসাব অনুযায়ী, মাত্র কয়েক সেকেন্ডের ব্যবধানে আঘাত হানা ৭ দশমিক ২ এবং ৭ দশমিক ৫ মাত্রার জোড়া ভূমিকম্পে প্রায় ৫৯ হাজার ভবন ক্ষতিগ্রস্ত বা সম্পূর্ণ ধ্বংস হয়েছে। মহাকাশ থেকেও এ ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞ স্পষ্টভাবে দেখা যাচ্ছে।

বিভিন্ন এলাকার বাসিন্দা ও বেঁচে ফেরা ব্যক্তিরা জানান, সব ধসে পড়া ভবনে এখনো পেশাদার উদ্ধারকারী দল পৌঁছাতে পারেনি। অনেক জায়গায় স্বজন ও প্রতিবেশীরাই ধ্বংসস্তূপ সরিয়ে জীবিত কিংবা মরদেহ উদ্ধারের চেষ্টা করছেন।

জাতিসংঘের ভেনেজুয়েলাবিষয়ক আবাসিক সমন্বয়কারী জিয়ানলুকা রামপোল্লা সোমবার কারাকাসে বলেন, ‘ইতিমধ্যে যে মৃত্যুর সংখ্যা প্রকাশ করা হয়েছে, প্রকৃত সংখ্যা তার চেয়ে বেশি হবে- এ বিষয়ে কোনো সন্দেহ নেই। একটি ধারণা দিতে পারি, স্থানীয় কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সমন্বয় করে আমরা ১০ হাজার মরদেহ বহনের ব্যাগ সংগ্রহ করছি।’

ভারপ্রাপ্ত প্রেসিডেন্ট ডেলসি রদ্রিগেজের সরকার জানিয়েছে, ভূমিকম্পে অন্তত এক হাজার ৭৫০ জন নিহত এবং কয়েক হাজার মানুষ আহত হয়েছেন। এছাড়া গৃহহীন হয়ে পড়েছেন প্রায় ১৬ হাজার মানুষ। অন্যদিকে দেশটির রাজনৈতিক বিরোধীদের প্রচারিত একটি ওয়েবসাইটের তথ্য অনুযায়ী, এখনো প্রায় ৪৩ হাজার মানুষ নিখোঁজ রয়েছেন।

ক্ষুধা ও রোগের ঝুঁকি নিয়ে জাতিসংঘের সতর্কতা: জাতিসংঘের বিভিন্ন সংস্থা সতর্ক করে বলেছে, ভূমিকম্পে বেঁচে যাওয়া মানুষ এখন ক্ষুধা ও রোগের উচ্চ ঝুঁকির মুখে রয়েছে। বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচি আগামী তিন মাসে পাঁচ লাখ মানুষের জন্য জরুরি খাদ্য সহায়তা দিতে পাঁচ কোটি মার্কিন ডলার তহবিলের আহ্বান জানিয়েছে। সংস্থাটি জানিয়েছে, পর্যাপ্ত অর্থায়ন নিশ্চিত হলে তারা ১০ লাখ মানুষকে খাদ্য সহায়তা দিতে সক্ষম।

ইতিমধ্যে লা গুয়াইরায় এক হাজার ২০০ মানুষের মধ্যে এক মাসের খাদ্যরেশন বিতরণ করা হয়েছে। এসব রেশনের মধ্যে রয়েছে শস্য, ডাল এবং ভোজ্যতেল। পাশাপাশি অস্থায়ী খাদ্য বিতরণ কেন্দ্রও স্থাপন করা হয়েছে।

এর আগে মঙ্গলবার বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা জানায়, ভেনেজুয়েলার স্বাস্থ্যব্যবস্থা তীব্র চাপে রয়েছে। অন্তত তিনটি স্বাস্থ্যকেন্দ্র মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং আরও ছয়টি স্বাস্থ্যকেন্দ্র আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত বা সীমিতভাবে কার্যক্রম চালাচ্ছে।

খুলনা গেজেট/এএজে




আরও সংবাদ

খুলনা গেজেটের app পেতে ক্লিক করুন